বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) ছিলেন উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক, গবেষক, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, ও সমাজ সংস্কারক। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনিই প্রথম আধুনিক উপন্যাসকার হিসেবে পরিচিত। তার বিখ্যাত উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী, বিষবৃক্ষ, কপালকুণ্ডলা, দুর্গেশনন্দিনী, হরিশ্চন্দ্রের দেউল, রাজসিংহ, চন্দ্রশেখর, ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটি গ্রামে। তার পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। বঙ্কিমচন্দ্রের প্রাথমিক শিক্ষা নৈহাটিতে শুরু হয়। ১৮৪৭ সালে তার পরিবার মেদিনীপুরে চলে যায় এবং সেখানে তিনি ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮৫৮ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর বঙ্কিমচন্দ্র সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তিনি হুগলি জেলায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে কাজ করেন। ১৮৭১ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন এবং সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। তার উপন্যাসগুলো বাংলা সাহিত্যে বাস্তবতাবাদের সূচনা করে। তিনি তার উপন্যাসে ব্রিটিশ শাসন, হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি, নারীমুক্তি, ও সমাজ সংস্কারের মতো বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় তুলে ধরেছেন। তার উপন্যাসের ভাষা ছিল সরল ও প্রাঞ্জল, যা বাংলা সাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য ভাষার সাহিত্যেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। তার উপন্যাসগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদিত হয়েছে এবং আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পঠিত হয়।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন অমর পুরুষ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।